বাংলাদেশে প্রথম ট্যুরিজম ভিত্তিক নিউজ পোর্টাল|রবিবার, জানুয়ারি ২০, ২০১৯
সাইটে আপনার অবস্থানঃ Home » জাতীয় » সাতক্ষীরায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই শিবিরকর্মী নিহত

সাতক্ষীরায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই শিবিরকর্মী নিহত 

stk ai
Print Friendly, PDF & Email

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহে যৌথবাহিনীর গুলিতে জামায়াত-শিবিরের তিন নেতা নিহত হয়েছে।

রোববার ভোরে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে এবং সাতক্ষীরার দেবহাটায় এ ঘটনা ঘটে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত।

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় যৌথবাহিনীর গুলিতে শিবিরের এক নেতা ও এক সদস্য নিহত হয়েছেন।

আজ রোববার ভোর সাড়ে পাঁচটায় দেবহাটা উপজেলার নারকেলি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারক বিশ্বাস জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তিরা হলেন শিবিরের উপজেলা সেক্রেটারি আবুল কালাম (২২) এবং সদস্য মারুফ ওরফে ছোট।

ওসি জানান, গতকাল শনিবার ভোরে কালাম ও মারুফকে দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের নিয়ে গতকাল দিবাগত রাতে যৌথবাহিনী অভিযানে নামে। বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শেষে আজ ভোরে নারকেলি গ্রামের আফগান ফেরত যোদ্ধা জিয়াউর রহমান ওরফে জিয়ার বাড়ির দক্ষিণ পাশে পৌঁছে যৌথবাহিনী। এসময় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা যৌথবাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে ওই দুইজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা যৌথবাহিনীকে লক্ষ্য করে অন্তত অর্ধশত রাউন্ড গুলি ও ১৫টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। যৌথবাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়। উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের সময় কালাম ও মারুফ গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে প্রথম দেবহাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

তবে জামায়াত-শিবিরের গুলি বোমায় যৌথবাহিনীর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি-না সে সম্পর্কে ওসি কিছুই জানাতে পারেননি।

ওসি আরো জানান, কালাম ও মারুফের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ৯-১০টি মামলা রয়েছে। মারুফ শিবিরের আত্মঘাতী দলের সদস্য বলেও দাবি করেছে পুলিশ।

ঘটনার বিষয়ে নিহতদের পরিবার বা শিবিরের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে যৌথবাহিনীর গুলিতে উপজেলা জামায়াতের অর্থ সম্পাদক স্কুল শিক্ষক এনামুল হক (৪৫) নিহত হয়েছেন।

রোববার ভোরে কোটচাঁদপুর উপজেলার নওদাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি বিদ্যালয় মাঠটিতে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে, এসময় ওই জামায়াত নেতা নিহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি সাটারগান ও দুইটি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে।

পুলিশের দাবি প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে ৩০ রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

তবে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এনামুলক হককে শনিবার বিকালে আটক করার পর হত্যা করা হয়েছে।

কোটচাঁদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজাহান আলী খান বলেন, নওদাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে গভীর রাতে একদল সন্ত্রাসী গোপন বৈঠক করছে। এমন খবরের ভিত্তিতে রাত দেড়টার দিকে অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী। এসময় যৌথবাহিনীকে লক্ষ্য করে ১০ রাউন্ড গুলি ও ৩টি বোমা ছুড়ে সন্ত্রাসীরা। যৌথবাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা ৩০ রাউন্ড গুলি চালায়। উভয় পক্ষের বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে এনামুল হক নামে এক সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে। মারাত্মক আহত অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়।

এসময় পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান, এএসআই মোক্তার হোসেন ও কনস্টেবল জয়দেব আহত হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত এনামুল হকের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নিহত জামায়াত নেতা এনামুল হক কোটচাঁদপুর উপজেলার বলরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও চাঁদপাড়া গ্রামের আব্দুল মালেক বিশ্বাসের ছেলে।

কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির তাজুল ইসলাম জানান, নিহত এনামুল কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের অর্থ সম্পাদক ও একজন স্কুল শিক্ষক। তিনি উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মুয়াবিয়া হোসেনের পক্ষে শনিবার বিকালে মনোনয়ন জমা দিতে কোটচাঁদপুরের ইউএনও কার্যালয়ে যান। বিকাল ৪ টার দিকে উপজেলা নির্বাচন অফিসের সামনে থেকে পুলিশের সাদা পোশাকধারী একটি দল তাকে আটক করে। তিনি দাবি করেন, আটকের পর তাকে রাতের কোন এক সময়ে হত্যা করা হয়েছে।

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহঃ

শেয়ার করুন !!Share on FacebookTweet about this on TwitterShare on Google+Share on LinkedInShare on RedditBuffer this pageDigg thisShare on TumblrPin on PinterestShare on StumbleUponFlattr the authorEmail this to someone